🏝️ DERA Resort & Spa Cox’s Bazar – ইনানি বিচে বিলাসিতার ছোঁয়া

🌊 Overview

কক্সবাজারের ইনানি বিচের একদম পাশে অবস্থিত DERA Resort & Spa একটি বিশ্বমানের অল-ইনক্লুসিভ রিসোর্ট। মাত্র ৪৫ মিনিটের ড্রাইভে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে এবং ৩০ মিনিটে কলাতলী সিটি সেন্টার থেকে পৌঁছে যাওয়া যায় এই স্বর্গসম গন্তব্যে।

সাদা বালি, নীল জলরাশি আর শান্ত পরিবেশে গড়ে তোলা এই রিসোর্ট আপনাকে দেবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। হিল ও সাগরের মাঝে সাজানো এই রিসোর্ট দম্পতিদের রোমান্টিক হানিমুন, পরিবারের ছুটি কিংবা কর্পোরেট আউটিংয়ের জন্য আদর্শ।


🌟 কেন DERA Resort বেছে নেবেন?

  • 📍 ইনানি বিচের একদম পাশে অসাধারণ লোকেশন
  • 🏖️ ভিলা, স্যুইট ও ডিলাক্স রুম – সি ভিউ ও হিল ভিউ সহ
  • 🏊 প্রাইভেট রুফটপ পুল, ইনফিনিটি পুল ও জিম
  • 🍴 আধুনিক ডাইনিং এরিয়া ও বারবিকিউ জোন
  • 🌴 স্পা, ওয়েলনেস ও প্রকৃতির মাঝে রিল্যাক্স করার সুযোগ
  • 🛎️ Complimentary ব্রেকফাস্ট, ওয়াই-ফাই ও পার্কিং

🛏️ রুম ও ভিলা ক্যাটাগরি

Presidential Villa (2670 SFT)

  • ডুপ্লেক্স ভিলা – ৫টি বেডরুম, প্রাইভেট রুফটপ পুল
  • Rate: Tk 1,50,000 / $1430 প্রতি রাত
  • Occupancy: 10 Adults

Executive Suite (1335 SFT)

  • সি-ভিউ সহ প্রশস্ত স্যুইট
  • Rate: Tk 90,000 ($858) অথবা Tk 60,000 ($572)
  • Occupancy: 5 Adults

Sea View Tower (290 SFT)

  • Deluxe Room (Sea View): Tk 12,000 / $115
  • Deluxe Room (Hill View): Tk 10,000 / $95
  • Occupancy: 2 Adults

Family Villas (970 SFT প্রতি ফ্লোর)

  • ২ বেডরুম + লাউঞ্জ, সি-ভিউ ব্যালকনি
  • Family Suite (1940 SFT): Tk 60,000 / $572 (5 Adults)
  • Premium Suite (970 SFT): Tk 30,000 / $286 (2 Adults)

Superior Villa (730 SFT প্রতি স্যুইট)

  • ৪টি প্রিমিয়াম স্যুইট সহ ভিলা
  • Superior Suite: Tk 20,000 / $190 (2 Adults)

🎁 Complimentary Benefits

✔️ Complimentary Breakfast
✔️ Free Pool Access
✔️ Tea & Coffee Setup
✔️ Mineral Water
✔️ Fruits Basket (for Villas)
✔️ Gym & Wellness
✔️ Free Wi-Fi
✔️ Car Parking


🏖️ Resort Facilities

  • Presidential Duplex Villa with Rooftop Private Pool
  • Infinity Pool & Kids Pool
  • Barbecue Zone & Open Terrace
  • Gym, Spa & Wellness Center
  • Sea View Dining & Lounge
  • Family & Group Villas
  • 24/7 Security & Guest Services

🌅 Inani Beach Experience

DERA Resort থেকে কয়েক মিনিট হাঁটলেই ইনানি বিচ।

  • শান্ত সাগর ও সোনালী বালি
  • প্রবাল পাথরের সৌন্দর্য
  • Marine Drive Road ও Himchari Waterfall ঘুরে দেখার সুযোগ

📍 ঠিকানা ও যোগাযোগ

DERA Resort & Spa – Cox’s Bazar
Marine Drive Road, Kutupalong, Inani, Ukhia
Cox’s Bazar – 4750

📞 +8801896001112
🌐 Google Map: DERA Resort Location

ভাষানী নভোথিয়েটার – বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র নভোথিয়েটার

নভোথিয়েটার

অজানাকে জানার আগ্রহ মানুষের চিরন্তন। আর যখন এটি বিনোদনের মাধ্যমে সম্ভব হয়, তখন আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়! বিজ্ঞানের প্রতি মানুষকে আরও আগ্রহী করতে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও বিজয় সরণীর মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভাষানী নভোথিয়েটার।

নভোথিয়েটার নামের সঙ্গে ‘থিয়েটার’ যুক্ত থাকলেও এটি সাধারণ সিনেমা হলের মতো নয়। ২০০৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই নভোথিয়েটারে রয়েছে ৫ ডি মুভি থিয়েটার, সিমুলেটর রাইড, ৫ ডি ইন্টারঅ্যাকটিভ এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর, ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিট গ্যালারি, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতি এবং গ্রহ ও সৌরজগতের প্রতিরূপ। এছাড়া, এখানে রয়েছে ১৫০ আসনের আধুনিক মিলনায়তন, ৫০ আসনের কনফারেন্স রুম, র‍্যাম্প, হাইড্রলিক লিফট এবং ভূগর্ভস্থ পার্কিং সুবিধা।

৫ ডি থিয়েটার ও রাইড সিমুলেটর

৫ ডি থিয়েটারের ১২০ ডিগ্রি কোণের বিশাল পর্দায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রক্ষেপণ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে বর্ণিল আলোকচ্ছটা, অ্যাস্ট্রোভিশন ছবি ও স্কাইক্যান ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করা হয়।

রাইড সিমুলেটরটিতে রেসিং কার, অ্যাক্রোবেটিক অ্যারোপ্লেন, মনোরেল, স্পেসক্র্যাফট, প্রাচীন পিরামিডের কোস্টার এবং এয়ারক্র্যাফট ফাইবারে চড়ে রোমাঞ্চ অনুভব করা যায়। এটি ৩০ আসনবিশিষ্ট, যা দর্শকদের একটি বাস্তবধর্মী অভিজ্ঞতা দেয়।

প্রদর্শনীর সময়সূচি

প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার—

  • সকাল ১০:৩০, দুপুর ১২:০০, বেলা ২:০০, বিকাল ৩:৩০ এবং ৫:০০।

শুক্রবার:

  • সকাল ১০:০০, ১১:৩০, দুপুর ২:৩০, বিকাল ৪:০০, ৫:৩০।

বুধবার বন্ধ থাকে। এছাড়া, গ্রীষ্মকালে (মার্চ-অক্টোবর) একটি অতিরিক্ত সন্ধ্যা প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়।

টিকিট মূল্য

  • প্ল্যানেটেরিয়াম প্রদর্শনী: ১০০ টাকা
  • ৫ ডি মুভি থিয়েটার: ৫০ টাকা
  • ৫ ডি ইন্টারঅ্যাকটিভ এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর: ৫০ টাকা
  • ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস গ্যালারি: ১০০ টাকা
  • রাইড সিমুলেটর: ২০ টাকা

নোট: ২ বছরের নিচে বাচ্চাদের জন্য টিকিট প্রয়োজন নেই। টেলিটক মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে তিন দিন আগে অগ্রিম টিকিট ক্রয় করা সম্ভব।

যোগাযোগ

  • ঠিকানা: বিজয় সরণী, তেজগাঁও, ঢাকা।
  • ফোন: ৯১৩৯৫৭৭, ৯১৩৮৮৭৮, ৮১১০১৫৫, ৮১১০১৮৪
  • ওয়েবসাইট: www.novotheatre.gov.bd

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি, ট্যাক্সি বা বাসে করে বিজয় সরণীর নভোথিয়েটারে আসা যায়। ফার্মগেট বা জিয়া উদ্যান পর্যন্ত এলে, সেখান থেকে মাত্র ৫ মিনিট হাঁটলেই নভোথিয়েটারে পৌঁছানো যাবে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা – প্রাণী বৈচিত্র্য ও দর্শনার্থীদের গাইড

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা (পূর্বনাম: ঢাকা চিড়িয়াখানা; মিরপুর চিড়িয়াখানা নামে অধিক পরিচিত) ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত একটি চিড়িয়াখানা। এটি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫০ সালে হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তুর প্রদর্শনশালা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় চিড়িয়াখানাটি। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয় এটি। চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন। বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ দর্শনার্থী ঢাকা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে থাকেন। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা নামকরণ করা হয়। চিড়িয়াখানার বার্ষিক বাজেট ৩৭.৫ মিলিয়ন টাকা, যার মধ্যে ২৫ মিলিয়ন টাকা পশুদের খাওয়ানোর জন্য ব্যয় করা হয়।

ইতিহাস

১৯৫০ সালের ২৬ ডিসেম্বর, কৃষি, সমবায় ও সাহায্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় একটি চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। তাই চিড়িয়াখানাটি ঢাকা হাইকোর্টের কাছে বেশ কয়েকটি দাগযুক্ত হরিণ, বানর এবং হাতি নিয়ে সে সময় শুরু হয়েছিল। পরে চিড়িয়াখানাটি আরও পশু নিয়ে বর্তমান ঈদগাহ ময়দানে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬১ সালে চিড়িয়াখানার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য একটি বোর্ড তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে, দেশি-বিদেশি প্রাণী সংগ্রহের পর, চিড়িয়াখানাটি ২৩ জুন ১৯৭৪ সালে বর্তমান অবস্থানে উদ্বোধন করা হয়।

আয়তন

ঢাকা চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। চিড়িয়াখানার চত্বরে ১৩ হেক্টরের দুটি দৃষ্টিনন্দন প্রশস্ত লেক আছে।

প্রাণী বৈচিত্র্য

চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৪ প্রজাতির ২,১৫০টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে:

  • ৫৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী: হাতি, চিতা, গণ্ডার, জেব্রা, ওয়াটারবাক, ভোঁদড়, হায়েনা, হরিণ, জিরাফ, ইম্পালা, কালো ভাল্লুক, টাপির, জলহস্তী, সিংহ, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, শিম্পাঞ্জী, বেবুন এবং বেঙ্গল টাইগার।
  • ৯১ প্রজাতির ১৫০০+ পাখি: ময়ূর, রিয়া, আফ্রিকান গ্রে প্যারোট, কেসোয়ারি, উটপাখি, এমু, টিলস, ফিঞ্চ, ছাতারে, প্যাঁচা, শকুন এবং ঈগল। চিড়িয়াখানার দুটি হ্রদ শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের আকর্ষণ করে।
  • ১৩ প্রজাতির সরীসৃপ ও ২৮ প্রজাতির মাছ: দর্শনার্থীরা সাপ, কুমিরসহ বিভিন্ন সরীসৃপ এবং নানা প্রজাতির মাছ দেখতে পারেন।

আকর্ষণীয় বৈচিত্র্য

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়া চিত্রা হরিণ, বানর, নীলগাই, সিংহ, জলহস্তি, গন্ডার, ভালুক, কুমির, জেব্রা, ফ্লেমিংগো, পানকৌড়ি এবং মাছরাঙ্গা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রাণী জাদুঘরে প্রায় ২৪০ প্রজাতির স্টাফিং করা পশুপাখি প্রদর্শিত হয়।

খোলা-বন্ধের সময়সূচি

  • সাপ্তাহিক বন্ধ: প্রতি রবিবার (যদি সরকারি ছুটি হয়, তাহলে খোলা থাকবে)।
  • গ্রীষ্মকাল (এপ্রিল-অক্টোবর): সকাল ৯টা – বিকেল ৬টা।
  • শীতকাল (নভেম্বর-মার্চ): সকাল ৮টা – বিকেল ৫টা।

প্রবেশমূল্য

  • মেইন গেট: দুই বছরের বেশি বয়সীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।
  • জাদুঘর: প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা।
  • শিক্ষার্থীদের জন্য: হাফ টিকিট (আইডি কার্ড আবশ্যক)।
  • দুই বছরের কম বয়সীদের জন্য: বিনামূল্যে প্রবেশ।

পিকনিক স্পট ভাড়া

  • উৎসব স্পট: ১০,০০০ টাকা।
  • নিঝুম স্পট: ৬,০০০ টাকা।

পার্কিং ফি

  • বাস, ট্রাক, মিনিবাস: ৪০ টাকা।
  • মাইক্রোবাস, ট্যাক্সি, জীপ, প্রাইভেটকার, পিকআপ: ২০ টাকা।
  • সিএনজি, টেম্পু, মোটরসাইকেল: ১০ টাকা।
  • রিকশা, বাইসাইকেল: ২ টাকা।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে চিড়িয়াখানাগামী বাস চলাচল করে। এছাড়া, নিজস্ব পরিবহণ, ট্যাক্সি, সিএনজি বা প্রাইভেটকারেও সহজে পৌঁছানো সম্ভব।

কোথায় খাবেন?

চিড়িয়াখানার সামনে বেশ কিছু খাবারের দোকান রয়েছে। তবে খাবার অর্ডারের আগে মূল্য নিশ্চিত করে নিন।

যোগাযোগ

Bangladesh National Zoo
চিড়িয়াখানা রোড, মিরপুর, ঢাকা – ১২১৬
ফোন: +88 02 58053030
ওয়েবসাইট: www.bnzoo.org

সুন্দরবন ভ্রমণ: কোথায় যাবেন, কী দেখবেন ও খরচ কেমন হবে

সুন্দরবন: প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়

সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত বনাঞ্চল। এটি মেঘনা, পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকায় অবস্থিত। প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চলের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশে রয়েছে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সুন্দরবনের গভীরে যেতে নৌ-পথই একমাত্র উপায়। শীতকাল ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। তবে, অনেকেই সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানেন না। তাই, রাইজিংবিডির পাঠকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে সুন্দরবনের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

সুন্দরবনে কী দেখবেন?

জামতলা সৈকত

জামতলা সৈকতের প্রধান আকর্ষণ হলো পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এখান থেকে বিস্তীর্ণ ছনক্ষেতে হাজার হাজার হরিণের ছোটাছুটি দেখা যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে কচিখালী সমুদ্র সৈকত হয়ে বন বিভাগের কচিখালী স্টেশন পর্যন্ত একটি হাঁটার পথ রয়েছে। পথ চলতে চলতে হরিণ, বাঘ, বিষধর সাপ ও শূকরের দেখা মিলতে পারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। এই দুঃসাহসিক ভ্রমণ সত্যিই মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা এনে দেবে।

মান্দারবাড়িয়া সৈকত

মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এখনো কিছুটা অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। এটি সুন্দরবন ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে অবস্থিত। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর থেকে মান্দারবাড়িয়া প্রায় ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরে। সাতক্ষীরা থেকে বুড়িগোয়ালিনীর দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া যায়, এরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা স্পিডবোটে যেতে হবে।

হীরণ পয়েন্ট

হীরণ পয়েন্টের কাঠের ওয়াকওয়ে ধরে বনের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গুইসাপ কিংবা কুমিরের দেখা মিলতে পারে। এছাড়াও, টাইগার পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনী এবং হারবাড়িয়ায় ভাগ্য ভালো হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখতে পাওয়া যেতে পারে।

দুবলার চর

দুবলার চর সুন্দরবনের অন্তর্গত একটি ছোট চর, যা অসংখ্য ছোট ছোট নদী দ্বারা বিভক্ত। এসব নদী বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিশেছে। চরটি কিছুটা ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো দর্শনার্থীর জন্য প্রবেশ করা সহজ নয়।

কটকা বিচ

কটকায় ৪০ ফুট উচ্চতার একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। এখান থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানে একটি সমুদ্র সৈকতও রয়েছে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে ফেরার পথে হাঁটতে হাঁটতে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। কটকা বিচ থেকে কচিখালী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঘাস দেখা যায়, যা বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণের জন্য আদর্শ। অনেকেই এটিকে বাঘের অভয়ারণ্য বলে থাকেন।

কোথায় থাকবেন?

সুন্দরবনের হীরণ পয়েন্টের নীলকমল, টাইগার পয়েন্টের কচিখালী ও কটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজ রয়েছে। নীলকমলে প্রতি কক্ষ ভাড়া দেশি পর্যটকদের জন্য ৩,০০০ টাকা, ৪ কক্ষের ভাড়া ১৩,০০০ টাকা। কচিখালীতে প্রতি কক্ষ ৩,০০০ টাকা এবং ৪ কক্ষের ভাড়া ১১,০০০ টাকা। কটকায় প্রতি কক্ষ ২,০০০ টাকা এবং ২ কক্ষের ভাড়া ৫,০০০ টাকা।

সাতক্ষীরা শহরে সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউজ ও ডরমেটরিতে থাকার ব্যবস্থা আছে। মংলায় পশুর বন্দরের সাধারণ হোটেল ও পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল রয়েছে। খুলনা মহানগরে মানসম্মত থাকার জন্য হোটেল রয়েল, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল মিলেনিয়াম এবং হোটেল ওয়েস্ট ইন রয়েছে।

ঢাকা থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন এবং লঞ্চের মাধ্যমে খুলনায় পৌঁছানো যায়। এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের বাস চালু রয়েছে। সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ এবং ঈগল পরিবহন নিয়মিত চলাচল করে। সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন লঞ্চও ছেড়ে যায়। খুলনার নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকা, এসি ১,৪০০ টাকা।

সায়েদাবাদ থেকে মংলার সরাসরি বাস রয়েছে, যা রাত ৮টা থেকে ৮:৩০ এর মধ্যে ছেড়ে যায় এবং ভোর ৫-৬টার মধ্যে পৌঁছে যায়। ভাড়া ৪৫০ টাকা।

ট্যুর কোম্পানি ও প্যাকেজ

খুলনা লঞ্চঘাট থেকে বিভিন্ন ট্যুর কোম্পানি সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য প্যাকেজ অফার করে। সাধারণত, প্রতি শুক্র থেকে রবিবার বা সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্যাকেজ ট্যুর পরিচালিত হয়।

কিছু জনপ্রিয় ট্যুর কোম্পানি:

  • দি গাইড ট্যুরস লিমিটেড (ফোন: 01711-540431)
  • বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড (ফোন: 01552-555550)
  • সিলভার ওয়েভ (ফোন: 01713-453137)
  • রূপান্তর ইকো ট্যুরিজম লিমিটেড (ফোন: 01711-829414)

প্যাকেজ খরচ: খাবার ও জাহাজের মান অনুযায়ী প্যাকেজের খরচ ৬,০০০-৮,০০০ টাকা হতে পারে। ভালো মানের প্যাকেজের জন্য জনপ্রতি ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। ৩৫-৪০ জনের গ্রুপ হলে ফ্লোরিং সিস্টেমে ৪,০০০-৫,০০০ টাকার মধ্যেও তিন দিনের সুন্দরবন ভ্রমণ সম্ভব।

সুন্দরবন ভ্রমণের ফি

  • অভয়ারণ্য এলাকায় দেশি পর্যটকদের জন্য ফি ১৬০ টাকা, ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৪০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১,৫৫০ টাকা।
  • অভয়ারণ্যের বাইরে দেশি পর্যটকদের ফি ৭৫ টাকা, ছাত্রদের জন্য ২৫ টাকা, গবেষকদের জন্য ৪৫ টাকা।
  • করমজল প্রবেশ ফি: দেশি পর্যটকদের জন্য ২৫ টাকা, বিদেশিদের জন্য ৩৫০ টাকা।
  • গাইড ফি ৫৫০ টাকা, লঞ্চ ক্রু ফি ৭০ টাকা, নিরাপত্তা গার্ড ফি ৩৫০ টাকা।

সুন্দরবন ভ্রমণের এই নির্দেশিকা আপনাকে সহজেই পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে।

চিম্বুক পাহাড় – বান্দরবানের মেঘ ছোঁয়া এক স্বপ্নলোক

চিম্বুক পাহাড়, বান্দরবান জেলা শহর থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ ফুট। চিম্বুক যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ী দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। বিশেষ করে, সাঙ্গু নদী ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করে তোলে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে যেতে যেতে মনে হবে, আপনি যেন চাঁদের বুকে ভ্রমণ করছেন।

২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে চিম্বুকের অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাহাড়ের উপর থেকে নিচে তাকালে মনে হবে মেঘগুলো যেন বয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাকে এখান থেকে দেখা যায়। তখন, পাহাড়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘ দেখে মনে হবে চিম্বুকই যেন মেঘের রাজ্য।

খাবার ও থাকার ব্যবস্থা

চিম্বুক, থানছি সড়কের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁ নেই। তবে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি রেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপন করা যায়। এছাড়া, সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিনে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার পাওয়া যায়।

বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামক দুটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে খাবার পাওয়া যায়। তবে, ভ্রমণের সুবিধার্থে বান্দরবান থেকেই হালকা খাবার, পানীয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাওয়া উত্তম।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে আপনাকে বান্দরবান যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির বাস ছেড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে শ্যামলি, ইউনিক, হানিফ, এস আলম ও ডলফিন। সাধারণত, রাত ১০টা ও সাড়ে ১১টায় সায়েদাবাদ, কলাবাগান বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া, চট্টগ্রামের বদ্দারহাট থেকে পূর্বানী ও পূবালী পরিবহনের বাসেও বান্দরবান যাওয়া যায়।

বান্দরবান শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, জিপ বা পাজেরো ভাড়া করে চিম্বুক যেতে হবে। থানছি পথে বিশেষ ধরনের বাসও চলাচল করে, যা দুর্গম পাহাড়ী পথে যাতায়াতের উপযোগী। তবে, রাস্তা দুর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিম্বুক-থানছি পথে বিকেল ৪টার পরে কোনো গাড়ি চলাচল করে না। তাই পর্যটকদের অবশ্যই বিকেল ৪টার মধ্যে ফিরে আসা উচিত।

কোথায় থাকবেন

বান্দরবানে বিভিন্ন রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে ৬০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে রাত্রিযাপন করা যায়।

  • হলিডে ইন রিসোর্ট: মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের অপর পাশে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এখানে ছোট ছোট কটেজ রয়েছে। ফোন: 01553-325347.
  • হিলসাইড রিসোর্ট: বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের ৫ কিলোমিটার এলাকায়, মিলনছড়িতে অবস্থিত। এখানে উন্নত মানের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মোবাইল: 01777-739289.
  • হোটেল ফোর স্টার: বান্দরবান শহরে অবস্থিত। এখানে এসি ও নন-এসি কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়।
  • হোটেল থ্রি স্টার: বান্দরবান বাসস্টপের পাশে অবস্থিত। এটি আট থেকে ১০ জনের থাকার উপযোগী। নন-এসি ফ্ল্যাট ২৫০০ টাকা, এসি ফ্ল্যাট ৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন: 01553-421089, 01813-278731.
  • হোটেল রিভার ভিউ: সাঙ্গু নদীর পাশের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। এখানে নিজস্ব রেস্টুরেন্টও রয়েছে।
  • নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট: এখানে তিনটি কটেজে ছয়টি কক্ষ রয়েছে, প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা। রিসোর্টের অতিথিদের জন্য মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগাযোগ: 01777-765789.

উপসংহার

চিম্বুক পাহাড়ের সৌন্দর্য ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। যদি আপনি ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তবে এটি অবশ্যই আপনার তালিকায় রাখা উচিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগেভাগে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ভ্রমণ হবে আরও উপভোগ্য।

তথ্য ও ছবি: (ইন্টারনেট)

Sheikh Russel Aviary & Eco Park, রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের নবীন প্রাকৃতিক বনায়ন

🌳 পরিচিতি ও আকর্ষণ

Sheikh Russel Aviary & Eco Park অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়, একটি পরিবেশবান্ধব বনায়ন ও পাখিপাখালার কমপ্লেক্স যা সব বয়সী ভ্রমণকারীর জন্য মুক্ত অভিজ্ঞতা আর পরিবেশ শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম।

  • অবস্থান: রাঙ্গুনিয়া–লেখারবাগ সড়ক, চট্টগ্রাম
  • আয়তন: ~৫০ একর
  • প্রতিষ্ঠা: ২০২২
  • প্রধান আকর্ষণ:
    • ২০০+ স্থানীয় ও আয়াতনিক ফলিক পাখি
    • সুসজ্জিত Nature Trail ও Observation Deck
    • আরোমা গার্ডেন ও বোটানিক্যাল সেকশন
    • শিশুদের জন্য এডুকেশনাল প্লে এরিয়া
    • পিকনিক স্পট ও আউটডোর ভেন্যু
    • বৃক্ষরোপণ প্রোগ্রাম ও স্কাউটিং জোন

🎟️ প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি

ক্যাটাগরিমূল্য
প্রাপ্তবয়স্ক১২০ টাকা
শিশু (৫–১২ বছর)৬০ টাকা
৫ বছরের নিচেফ্রি
  • খোলার সময়:
    • প্রতিদিন: সকাল ৯টা – বিকাল ৫টা
  • গ্রুপ ভিজিট:
    • স্কুল/কলেজ ও কর্পোরেট গ্রুপের জন্য আগে নোটিশে বুকিং ফ্রি গাইড

🌿 প্রধান কার্যক্রম

  1. নেচার ট্রেইল ও ওবজারভেশন ডেক:
    – বনভূমির মধ্য দিয়ে অর্ধকিলোমিটার হাঁটা পথ
    – পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য উঁচু ডেক
  2. এভিয়ারি জোন:
    – ফ্রিজন, টিয়েটিম, শুশুক, বুলবুলসহ স্থানীয় পাখিদের অনুকূল আবাস
    – নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রজনন ও সংরক্ষণ
  3. বোটানিক্যাল সেকশন:
    – দেশীয় ও বিদেশী প্রজাতির গাছপালা
    – আরোমাথেরাপি গার্ডেন ও হের্বাল প্লান্ট কর্ণার
  4. এডুকেশনাল প্লে এরিয়া:
    – চার্ট, মডেল ও ইন্টারেক্টিভ ডিসপ্লে
    – পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মশালা
  5. পিকনিক স্পট ও ভেন্যু ভাড়া:
    – গ্রুপ পিকনিকের জন্য ছাউনি ও বেঞ্চ
    – ছোট আউটডোর পার্টি, জন্মদিন, কর্পোরেট মিটিংয়ের স্পেস

🗺️ যাত্রাপথ ও টিপস

  • ঢাকা ➝ চট্টগ্রাম: ট্রেন বা ফ্লাইট; চট্টগ্রাম থেকে নগর বাস/ট্যাক্সি করে রাঙ্গুনিয়া (~৪০ কিমি, ১.৫ ঘন্টা)
  • স্থানীয় পরিবহণ: রাঙুনিয়া পৌঁছে সিএনজি বা প্রাইভেট কার
  • ভ্রমণ টিপস:
    • সকালের ভিজিট বেছে নিন; বিকালে গাছছায়ায় হেঁটে দেখতে মনোরম
    • পানীয় জলে বোতল ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন
    • ক্যামেরা বা বাইনোকিউলার নিয়ে আসুন পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য
    • আবর্জনা পেছনে না রেখে “নো ট্রেস” নীতি মেনে চলুন

👣 Sheikh Russel Aviary & Eco Park–এ একবার ভ্রমণে আপনি পাবেন প্রকৃতির মাঝে শান্তি, শিক্ষণীয় সময় এবং পরিবার-বন্ধুদের সাথে আনন্দঘন মুহূর্ত!

রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও কাপ্তাই হ্রদ: পাহাড়, প্রকৃতি ও পর্যটনের মিলনস্থল

রাঙ্গামাটিতে আসা পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ঝুলন্ত ব্রীজ। নয়নাভিরাম বহুরঙা এই ঝুলন্ত সেতুটি দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে গড়ে দিয়েছে হৃদ্দিক সম্পর্ক। সেতুটি পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি আপনাকে এনে দেবে ভিন্ন দ্যোতনা। এখানে দাঁড়িয়েই কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করতে পারবেন। কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। ওপারেই রয়েছে আদিবাসী গ্রাম। ইচ্ছে হলেই দেখতে পাবেন আদিবাসী জীবনযাপনের ক্ষয়িষ্ণু চালচিত্র।

কিভাবে যাবেন রাঙ্গামাটি?

আপনি বাংলাদেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন রাঙামাটিতে আসতে হলে চট্টগ্রামের অক্সিজেন রাঙামাটির বাস টারমিনাল আসতে হবে। এখান থেকে আধা ঘন্টার ব্যবধানে আপনি পাবেন পাহাড়ীকা ও লোকাল বাস সার্ভিস।

লোকাল বাসের ভাড়া ৮৫টাকা এবং পাহাড়ীকা বাসের ভাড়া ১১০ টাকা। পাহাড়ীকা বাসে সময় লাগে আড়াই ঘন্টা এবং লোকাল বাসে ৩-সাড়ে ৩ ঘন্টা।

সকাল ৭টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া যায় বাস। এছাড়া যারা আরামদায়ক ভ্রমন করতে চান তাদের জন্য আছে বিলাস বহুল সার্ভিস এস. আলম, ইউনিক, হানিফ ও বিআরটিসি। এইসকল বাস সার্ভিসের ভাড়া ১০০-১২০ টাকা। সময় লাগবে ২.৩০-৩ ঘন্টা।

এছাড়া ভাড়া করা মাইক্রো, নিজস্ব গাড়ী ক্যাব অথবা কার নিয়েও আপনি আসতে পারেন রাঙামাটি। নিজস্ব গাড়ী নিয়ে আসলে অর্থ এবং সময় দুই’ই সাশ্রয় হবে।

রাঙ্গামাটির কোথায় থাকবেন

রাঙামাটিতে পর্যটকদের থাকার জন্য বেশ কিছু ভালমানের হোটেল আছে। যেমনঃ হোটেল সুফিয়া, নীডস হিল ভিউ, মোটেল জর্জ, হোটেল গ্রীন ক্যাসেল, শাইনিং হিল গেষ্ট হাউজ, টুকটুক ইকো ভিলেজ, হোটেল আনিকা অন্যতম।

এগুলো মোটামুটি ভালো মানের হোটেল। ভাড়া ৫০০টাকা হতে ২০০০টাকা পর্যন্ত। আবার কমদামী কিছু হোটেল ও আছে। যেমনঃ মধুমিতা, সৈকত, শাপলা, ডিগনিটি, সমতা, উল্লেখযোগ্য। এগুলো ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া পর্যটনের রয়েছে নিজস্ব মোটেল। ভাড়া ১২৫০ থেকে ২৫৫০ টাকা পর্যন্ত। রয়েছে ছোট ছোট কটেজও। কটেজগুলোর প্রতি রাতের ভাড়া ৩১০০-৫১০০ টাকা। সরকারি বিভিন্ন দফতরের গেষ্ট হাউস, রেষ্ট হাউস এবং বাংলোগুলো নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে হয় এবং যথাযত কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ভাড়া দেওয়া হয়।

তথ্য ও ছবিঃ( ইন্টারনেট )

কেওক্রাডং বান্দরবান: বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পট

কেওক্রাডং(ইংরেজী: Keokradong) নামে সুপরিচিত, বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা বান্দরবানে অবস্থিত। এক সময় এটিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ধরা হত। তবে আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকা হাফং ।

অবস্থান ও উচ্চতা:

কেওক্রাডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। অর্থাৎ বান্দরবানেরও দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। একসময় যখন একে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মনে করা হতো তখন এর উচ্চতা পরিমাপ করা হয়েছিল ১,২৩০ মিটার। কিন্তু অধুনা রাশিয়া কর্তৃক পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্ত এবং জিপিএস গণনা থেকে দেখা গেছে এর উচ্চতা ১,০০০ মিটারের বেশি নয়। শৃঙ্গের শীর্ষে সেনাবাহিনী কর্তৃক উৎকীর্ণ যে ফলক দেখা যায় তাতে এর উচ্চতা লেখা হয়েছে ৩,১৭২ ফুট। জিপিএস সমীক্ষায় উচ্চতা পাওয়া গেছে ৯৭৪ মিটার (৩,১৯৬ ফুট)। এই পরিমাপটি রুশীয় পরিমাপের সাথে খাপ খায়। এসআরটিএম উপাত্ত এবং মানচিত্রের মাধ্যমে এই পরিমাপ করা হয়েছে। অবশ্য বর্তমানে রুশীয় এসআরটিএম উপাত্ত এবং ইউএসজিএস-এর মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে কিওক্রাডাং-এর প্রকৃত অবস্থান এটি নয় (উপরে উল্লেখিত ভৌগোলিক স্থানাংকে নয়)। তারা এ স্থান থেকে আরও উত্তরে কেওক্রাডাং এর অবস্থান শনাক্ত করেছেন এবং এর উচ্চতা ৮৮৩ মিটার পরিমাপ করেছেন।

কিভাবে যাবেন:

বান্দরবান থেকে রুমায়ঃ বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলায় চান্দের গাড়ি অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে যেতে পারবেন। রুমা থেকে বগা লেকেঃ রুমা বাজার থেকে ২০০০/- টাকা থেকে ২৫০০/- টাকা ভাড়ায় চান্দের গাড়িতে করে বগা লেক পর্যন্ত যেতে পারবেন। বগা লেকে পৌঁছানোর পূর্বে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে আপনাকে নাম, ঠিকানা, এবং অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। জাদিপাই ঝর্ণায় পৌঁছানোর জন্য আপনাকে একজন গাইড ভাড়া করতে হবে। প্রথমদিন গাইডের ভাড়া দিতে হবে প্রায় ৬০০/- টাকা এবং এরপর প্রতিদিনের জন্য ভাড়া দিতে হবে প্রায় ৫০০/- টাকা। জাদিপাই ঝর্ণায় যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই গাইডের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। সন্ধ্যার মধ্যে আপনি বগা লেকে পৌঁছে যাবেন আর তাই আপনাকে সেখানে রাত কাটাতে হবে। বগা লেক এলাকায় বেশকিছু আদিবাসীদের পল্লী রয়েছে। এসব পল্লীতে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারেন এবং রাতের খাবার খেতে পারবেন। এছাড়া এখানে থাকার ব্যাপারে গাইড আপনাকে সহায়তা করবে।

জাদিপাই ঝর্ণায় পৌঁছানো

পরদিন আপনাকে খুব সকালে যাত্রা করতে হবে। সকাল ৭ টার মধ্যেই আপনাকে রওনা হতে হবে। প্রথমেই আপনাকে কেওক্রাডঙে যেতে হবে। কেওক্রাডঙে যাওয়ার পথে দার্জিলিংপাড়া নামক একটি উপজাতিয় পল্লীতে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিতে পারবেন। কেওক্রাডঙে পৌঁছে আপনাকে জাদিপাই ঝর্ণায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। কেওক্রাডঙ থেকে জাদিপাইয়ে পৌছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। জাদিপাইতে যাওয়ার পথে আপনি পাসিংপাড়া এবং জাদিপাড়া অতিক্রম করবেন। তবে, মনে রাখবেন জাদিপাইতে যাওয়ার পথে শেষ ৩০ মিনিটের যাত্রাপথ খুবই কষ্টকর। তবে, জাদিপাইয়ে পৌঁছে ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে আপনার সকল ভ্রমন ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। ঢাকা থেকে জাদিপাই ঝর্ণা দেখতে যেতে চাইলে আপনাকে বান্দরবানে পৌছাতে হবে। বান্দরবানে পৌঁছানোর উপায় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

কিভাবে পৌঁছাবেন: বান্দরবান জেলা ঢাকার সাথে বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি বান্দরবানে যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে বান্দরবানের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলঃ

১। এস আলম সার্ভিসেস লিমিটেড

যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬২৯০২

২। শ্যামলী পরিবহন

যোগাযোগঃ ০৪৪৩৪৪৯৯৩৪

৩। সাউদিয়া পরিবহন

আরামবাগ কাউণ্টার, যোগাযোগঃ +৮৮-০২-৭১০২৪৬৫ গাবতলি কাউণ্টার, যোগাযোগঃ +৮৮-০২-৮০১৮৪৪৫

কোথায় থাকবেন:

বান্দরবানে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্টহাউজগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। হিলসাইড রিসোর্ট

ঠিকানাঃ চিম্বুক সড়ক, বান্দরবান

যোগাযোগঃ ০১৭৩০০৪৫০৮৩, ০২-৯৮৮৬৯৮৩

২। হোটেল গ্রিনহিল

ঠিকানাঃ প্রধান সড়ক, বান্দরবান-৪৬০০

যোগাযোগঃ +৮৮০১৮৫৬৬৯৯৯১০, +৮৮০১৮৫৬৬৯৯৯১১

৩। হোটেল পূরবী

ঠিকানাঃ ভিআইপি রোড, বান্দরবান সদর, বান্দরবান

যোগাযোগঃ ০১৮২৩-৩৪৬৩৮৩, ০৩৬১-৬২৫৩১ ৪। হোটেল পাহাড়িকা

ঠিকানাঃ প্রধান সড়ক, বান্দরবান

যোগাযোগঃ ০৩৬১-৬২১৫৫

খাবার সুবিধা

কেওক্রাডং এ আবাসিক অথবা অনাবাসিক হোটেল, মোটেল অথবা রেস্টুরেন্ট না থাকায় আপনাকে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে হবে।

তথ্য ও ছবিঃ( ইন্টারনেট )

খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমণ গাইড: বাংলাদেশের বৃহত্তম ধাপযুক্ত ঝর্ণা

বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর জলপ্রপাত খৈয়াছড়া ঝর্ণা, যা ১২টি ধাপ বিশিষ্ট। ঝর্ণার প্রতিটি ধাপ প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। পাহাড়ি পথ, ঝিরিপথের কোলাহল, এবং ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এই ঝর্ণায় পৌঁছাতে হয়, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা এনে দেয়।


খৈয়াছড়া ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?

খৈয়াছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা থেকে বাসে চট্টগ্রাম বা ফেনী হয়ে এখানে পৌঁছানো যায়।

কেন খৈয়াছড়া ঝর্ণা বিখ্যাত?

  • এটি বাংলাদেশের সর্বাধিক ধাপযুক্ত ঝর্ণা (১২টি ধাপ)।
  • প্রতিটি ধাপই আলাদা সৌন্দর্য নিয়ে গঠিত।
  • ঝর্ণার চারপাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝিরিপথ।
  • ১২তম ধাপে রয়েছে প্রাকৃতিক সুইমিং পুল, যেখানে সাঁতার কাটা যায়।
  • ট্রেকিং করার দারুণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

খৈয়াছড়া ঝর্ণা যাওয়ার উপায়

রুট ১ (সরাসরি খৈয়াছড়া মুখ পর্যন্ত)

  1. ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাস (ভাড়া: ৪৫০-৫০০ টাকা, নন-এসি)।
  2. বড়তাকিয়া বাজার নেমে উল্টো দিকে ১ মিনিট হাঁটলেই খৈয়াছড়ার সাইনবোর্ড দেখা যাবে।
  3. এখান থেকে সি.এন.জি বা নসিমন (ভাড়া: ১৫-২০ টাকা) নিয়ে কিছু দূর যেতে পারবেন।
  4. এরপর দেড়-দুই ঘণ্টা হেঁটে ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়।

রুট ২ (ফেনী হয়ে কম খরচে যাওয়ার উপায়)

  1. ঢাকা থেকে ফেনীর বাস (ভাড়া: ২৭০ টাকা, নন-এসি)।
  2. ফেনীর মহিপাল নেমে চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসে (ভাড়া: ৪০-৬০ টাকা) বড়তাকিয়া বাজারে নামতে হবে।
  3. বড়তাকিয়া থেকে অটো/সি.এন.জি নিয়ে খৈয়াছড়া মুখে পৌঁছানো যাবে।

খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার সেরা সময়

বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) খৈয়াছড়া ঝর্ণার সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এই সময় পানির প্রবাহ বেশি থাকে এবং চারপাশ সবুজে ভরে ওঠে। তবে বর্ষার দিনে রাস্তা পিছল ও জোঁকের উপদ্রব থাকতে পারে।


খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমণের প্রস্তুতি

  1. ট্র্যাকিং স্যান্ডেল (ভালো গ্রিপযুক্ত, কারণ পথ পিছল হতে পারে)।
  2. হালকা শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি (বাজার থেকে সংগ্রহ করা ভালো)।
  3. জোঁক থেকে বাঁচতে লবণ ও এন্টিসেপটিক ক্রিম।
  4. বৃষ্টি হলে রেইনকোট নিয়ে যাওয়া ভালো।
  5. ব্যাগ যথাসম্ভব হালকা রাখা, কারণ দীর্ঘ সময় হাঁটতে হবে।

খৈয়াছড়া ঝর্ণার ট্র্যাকিং অভিজ্ঞতা

  • খৈয়াছড়া ঝর্ণায় প্রথম ধাপে পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
  • ঝর্ণার প্রতিটি ধাপেই ১০-১৫ মিনিট সময় কাটানো যায়।
  • যারা সাঁতার জানেন, তারা ১২তম ধাপে গিয়ে পানিতে নেমে মজা নিতে পারেন।
  • পুরো ঝর্ণা ঘুরে দেখতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

সংক্ষেপে খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমণের গাইড

  • যাত্রা শুরু: ঢাকা থেকে রাতে বাসে রওনা হয়ে সকালে পৌঁছানো
  • গন্তব্য: বড়তাকিয়া বাজার থেকে ঝর্ণার দিকে যাত্রা
  • ট্র্যাকিং: ২ ঘণ্টার পথ হাঁটতে হবে
  • ভ্রমণের মজা: ঝর্ণার ১২ ধাপে সময় কাটানো ও ১২তম ধাপে সাঁতার কাটা
  • ফিরতি যাত্রা: সন্ধ্যার আগে ঝর্ণা থেকে নেমে রাতের বাসে ঢাকায় ফেরা

খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমণের সময় পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা ফেলে প্রকৃতির ক্ষতি করবেন না। শুভ ভ্রমণ!


FAQ: খৈয়াছড়া ঝর্ণা সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

১. খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য অনুমতি লাগে কি? উত্তর: না, তবে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পিং করা যাবে না।

২. খৈয়াছড়া ঝর্ণায় সাঁতার কাটা নিরাপদ কি? উত্তর: হ্যাঁ, তবে পানির গভীরতা দেখে নেমে সতর্ক থাকতে হবে।

৩. খৈয়াছড়া ঝর্ণার কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা কেমন? উত্তর: বড়তাকিয়া বাজারে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাওয়া যায়। চাইলে চট্টগ্রাম শহরে ফিরে হোটেলে থাকতে পারেন।


সারসংক্ষেপ:

✅ খৈয়াছড়া ঝর্ণা বাংলাদেশের বৃহত্তম ধাপযুক্ত জলপ্রপাত ✅ বর্ষাকালেই ঝর্ণার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় ✅ ট্রেকিং, সাঁতার এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য আদর্শ ✅ ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের বাস ধরে সহজে যাওয়া যায় ✅ ঝর্ণার পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল পর্যটক হোন

এবার আপনার ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন এবং বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝর্ণা খৈয়াছড়া ট্রেইল এক্সপ্লোর করতে বেরিয়ে পড়ুন! 🌿💦

তথ্য ও ছবিঃ( ইন্টারনেট )

নেভাল সমুদ্র সৈকত: নিরাপদ ও মনোরম সমুদ্র দর্শনের ঠিকানা

নেভাল সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। এটি মূলত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যার ফলে সৈকতটি নিরাপত্তার দিক থেকে বেশ উন্নত এবং পরিচ্ছন্ন। সৈকত থেকে সমুদ্রের বুকে সারি সারি নোঙর করা জাহাজের দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।

নেভাল সৈকতের বৈশিষ্ট্য

  • নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন: এটি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকায় এখানে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা নেই।
  • পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো: সৈকতের ভাঙন রোধে সিমেন্টের বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছে, যার ওপরে লাগানো হয়েছে সবুজ ঘাস, যা এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে।
  • শত শত জাহাজের দৃশ্য: সৈকতের পাশেই কর্ণফুলী নদীর মোহনা, যা পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণীয়।
  • পতেঙ্গা সৈকতের সান্নিধ্য: নেভাল সৈকতের পাশেই রয়েছে পতেঙ্গা সৈকত, যা পর্যটকদের জন্য দ্বিগুণ আনন্দের সুযোগ সৃষ্টি করে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত: নেভালের নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

পতেঙ্গা সৈকত, যা নেভাল সৈকতের ঠিক পাশেই অবস্থিত, বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত এবং এখানে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সেখানে উন্নত রাস্তাঘাট তৈরি করা হয়েছে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • সাঁতারের সময় সতর্কতা: পতেঙ্গা সৈকতের প্রস্থ কম হওয়ায় এবং প্রবল জোয়ারের সময় সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় এখানে সাঁতার কাটা ঝুঁকিপূর্ণ।
  • নিরাপত্তার জন্য বিধিনিষেধ: নেভাল সৈকত নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি লাগতে পারে।

কিভাবে যাবেন?

নেভাল সৈকতে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছাতে হবে। চট্টগ্রাম শহর থেকে আপনি নিম্নলিখিত উপায়ে যেতে পারেন:

  • বাস: শহর থেকে ৪ নম্বর বাসে যাওয়া যায়, ভাড়া প্রায় ২০ টাকা।
  • সিএনজি বা মোটরসাইকেল: শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সহজেই সিএনজি বা মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে নেভাল সৈকতে পৌঁছানো যায়।

সেরা সময় ভ্রমণের জন্য

  • শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি): সৈকতের আবহাওয়া ঠান্ডা ও মনোরম থাকে।
  • গ্রীষ্মকাল (মার্চ-জুন): তুলনামূলকভাবে গরম থাকলেও সমুদ্রের হাওয়া উপভোগ করা যায়।
  • বর্ষাকাল (জুলাই-অক্টোবর): সৈকতের সৌন্দর্য বেড়ে যায়, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।

শেষ কথা

নেভাল সৈকত তার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং নয়নাভিরাম দৃশ্যের কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য। চট্টগ্রাম ভ্রমণের সময় এটি অবশ্যই আপনার তালিকায় রাখা উচিত। একইসঙ্গে, পতেঙ্গা সৈকতও ঘুরে দেখা যেতে পারে, যা নেভাল সৈকতের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আপনি যদি সমুদ্রের সৌন্দর্য ভালোবাসেন এবং এক শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন সৈকতে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে চান, তাহলে নেভাল সৈকত হবে আপনার জন্য একটি আদর্শ স্থান।

তথ্য ও ছবিঃ( ইন্টারনেট )